“ভালোবাসাবাসি”
প্রভাত বৈদ্য
ভালবাসার রঙিন দোলনায় দুলতে থাকে জীবন।
কখনো নিঃশব্দে, নিজস্ব গতিতে,
অব্যক্ত চেতনায়, আবার কখনো গোপন মায়াজালে।
ভালোবাসার সত্যিই কি কোন মানে আছে নাকি!
আমার মনগড়া নিয়মের বাইরে এলেই ভালবাসা
ছুঁড়ে ফেলেদেই দূর্গন্ধময় কর্দমাক্ত পথে।
হয়ে উঠি নিয়ন্ত্রণহীন রোবট কিংবা বেপরোয়া ড্রাইভার।
কারণ এখন পথ হারিয়ে অর্থের বিনিময়ে সহজেই
আবার নতুন পথ খুঁজে পাওয়া যায়,
সকাল অথবা বিকেলের নির্মল রোদের মতো।
তৃতীয় কোন কক্ষের ভিতরে রঙিন জলের নেশাতুর
চাহনিতে প্রতিদিন চলে ভালবাসার হিসাব-নিকাশ।
সবাই কানেকানে বলে এটাই নাকি আজকাল
ভালবাসার উচ্চ পদস্থ সিংহাসন।
আমিও হাততালি দিয়ে চোখ বুজে ঐ
অলৌকিক সিংহাসন খুঁজতে থাকি।
আমি এখন তাই গোপনে গোপনে নীলসমুদ্রের
নীলকান্তমণির লোভ দেখিয়ে হাঁটি।
আমি এখন আর কলমের সাথে কাগজের
ভালোবাসার মূল্যবোধ হিসেব কষতে জানিনা।
রঙিন চশমার ফাঁকে দিয়াশলাইয়ের অনিয়মিত
জ্বলজ্বলে আগুন দেখি দিন-রাত।
আটকে আছি বিক্ষুব্ধ অক্টোপাসের ভয়ংকর নেশায়।
আমি অন্যকে ভালোবাসার অর্থ বোঝাতে বেমালুম ভুলে গেছি।
ভালবাসা আজ ডুবে গেছে লোভনীয় চায়ের পেয়ালায়,
ভালবাসা ডুবে গেছে মুখোশের ভীতিগ্রস্ত আড়ালে,
ভালবাসা ডুবে যায় নীলযমুনার বিভৎস
বিলাসিতার রঙিন গ্লাসে।
তাই আমি এখন আর ভালোবাসা খুঁজিনা।
স্নিগ্ধ বিকেলে নীরবে চেয়ে দেখিনা মুক্ত পাখির ডানায়
কী ভালবাসা লুকিয়ে থাকে!
নিউইয়র্ক

No comments: