কোভিড নাইনটিন -০২

প্রভাত বৈদ্য
পথে ঘাটে লোক নেই, চারিদিক স্তব্ধ
সারাদিন কোন কাজে নেই মন।
ওষুধের কাজ নয়, ঘরে থাকো চুপচাপ
মুখ ঢেকে চুপ থাকো সারাক্ষণ।
মাঝে মাঝে কিছু লোক, নিরুপায় মনে হয়
ক্ষুধা পেটে নাড়িভূঁড়ি জ্বলছে।
সারাদিন লাঠি হাতে, চিৎকার দিয়ে কেউ
ঘরে থাকো কড়া সুরে বলছে।
সাবধানে চুরি করে, ডাকাতি ও কম নয়
সুযোগের ওঁৎ পাতা কিছু লোক।
মরে যায় কত জন, কত শত নিঃস্ব
এসবে ওদের নেই কোন শোক।
চাল চোর ডাল চোর, সবদিকে চোর চোর
চোরা কারবার চলে সুনিপুণ।
গরীবের হাতে দেখি, দু’কেজির ছেঁড়া ব্যাগ
হাতে পায় এক কেজি বাসি নুন।
অফিসের দরজা, খুলেদিল গার্মেন্টস
ভীড় করা লোকজন খুব রাস।
অবেলার দিনশেষে, সাথে করে নিয়ে যায়
মুঠো মুঠো করোনা ভাইরাস ।
হাসপাতালের দ্বার, ভয়ানক চারপাশ
মৃত্যুরা নাকে মুখে ঠোঁটেও।
ডাক্তার অসহায়, চোখ মোছে কষ্টে
নিরাপদে তারা নেই মোটেও।
অসুখের শেষ নেই, মানুষেরা প্রতিদিন
ভাল থাকার অবিরাম চেষ্টা।
ভাবি সারাদিন রাত, সবকিছু ভালো থাক
ভালো থাক মোর প্রিয় দেশটা।
নিউইয়র্ক
Grab Bitcoin every hour for life!

 প্রতিবিম্ব

————
প্রভাত বৈদ্য
গাছের ছায়া,
মানুষ চোখ দিয়ে দেখে প্রতিদিন,
দিনের আলোয়, জ্যোস্নায়।
নিজের অদ্ভুত প্রতিচ্ছবি নিজের সাথেই
হাত ধরে ঘুরে-ফিরে।
একজনের মত আরেক মানুষ।
মাঠে-ঘাটে যে যেখানেই সব মানুষেরা
স্বচ্ছ আয়নায় কিংবা স্বচ্ছ জলে ডুবে যায়,
কল্পনায় ভেসে ওঠে কখনো প্রাচীন দূর্গ,
রাজা-বাদশা, যুদ্ধ, ইতিহাস।
পুরনো ভাবনাগুলোর সমস্ত অন্দরমহল।
আরাম কেদারায় নিজস্ব ফেসবুক অর্ধনগ্ন,
খোলামেলা নায়াগ্রা পৃথিবী,
অথবা গভীর অন্ধকার থেকে হাতে নেয়
অবিরাম জপমালা,
নিজের ছাঁয়ায় ঢেকে নিজের নিষ্কলঙ্ক বিশুদ্ধ ভাবনা।
হারানো দিন, হারানো মানুষ এ্যালবামে হেঁসে ওঠে,কথা বলে।
পৃথিবীর অবয়বে দেখা যায় নিয়মিত চন্দ্রগ্রহণ ।
একসময়,
অপরিকল্পিত বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো
বিষবৃক্ষের শিকড়ের সাথে আকাশ ছোঁবে,
ফুলগুলোর আধফোঁটা পাঁপড়ি
শুকিয়ে যাবে দেয়ালে
ঢেকে যাবে ঐশ্বর্য্য, ইতিহাসের কারুকাজ।
ঠিক সেই সময়
পাথর হয়ে যাবে এক একটা মানচিত্র।
আর ভাস্কর্য মাথা তুলে দেখবে
অগণিত পাথর মানুষগুলোর বিভৎস প্রতিবিম্ব ।
নিউইয়র্ক




 অতঃপর কিছু নেই

প্রভাত বৈদ্য

হারিয়ে গেছে মেঘলা দিনে, একলা থাকা রাত,
আবছা আলোয় বৃষ্টিফোঁটা, মুক্ত হাতে হাত।
সেই আলোতে একটু বাতাস, মুচকি হেঁসে যায়,
সারাটা দিন জানালা ভেজা, শীতল জ্যোছনায়।
রাতের হাওয়া যায় হারিয়ে, যায়না ঘরে রাাখা,
বাদল বুকে শ্রাবণ পাখির, বন্ধ দুটি পাখা।
কখনোবা একটু চাওয়া, একটু আলোর হাঁসি,
ভুলে ভরা বাঁকা চোখের, ভেলায় ভাসাভাসি।
ঠোঁটে লাজুক পাঁপড়ি ছুঁয়ে, ডুবছে প্রজাপতি,
ছেঁড়া পালক আকাশ ঘুরে, থমকে গেছে গতি।
নদীর জলে সুখ জমেছে, উঠছে দুলে ঢেউ,
দুহাত তুলে ডাকছে বুকে, খুব অচেনা কেউ।
দুচোখ তবু দেখছে ধুলো, দেখছে ভাঙা রথ,
ভুলেই গেছে পাখিটা তার ভালবাসার পথ।
নিউইয়র্ক

“ভালোবাসাবাসি”
প্রভাত বৈদ্য
ভালবাসার রঙিন দোলনায় দুলতে থাকে জীবন।
কখনো নিঃশব্দে, নিজস্ব গতিতে,
অব্যক্ত চেতনায়, আবার কখনো গোপন মায়াজালে।
ভালোবাসার সত্যিই কি কোন মানে আছে নাকি!
আমার মনগড়া নিয়মের বাইরে এলেই ভালবাসা
ছুঁড়ে ফেলেদেই দূর্গন্ধময় কর্দমাক্ত পথে।
হয়ে উঠি নিয়ন্ত্রণহীন রোবট কিংবা বেপরোয়া ড্রাইভার।
কারণ এখন পথ হারিয়ে অর্থের বিনিময়ে সহজেই
আবার নতুন পথ খুঁজে পাওয়া যায়,
সকাল অথবা বিকেলের নির্মল রোদের মতো।
তৃতীয় কোন কক্ষের ভিতরে রঙিন জলের নেশাতুর
চাহনিতে প্রতিদিন চলে ভালবাসার হিসাব-নিকাশ।
সবাই কানেকানে বলে এটাই নাকি আজকাল
ভালবাসার উচ্চ পদস্থ সিংহাসন।
আমিও হাততালি দিয়ে চোখ বুজে ঐ
অলৌকিক সিংহাসন খুঁজতে থাকি।
আমি এখন তাই গোপনে গোপনে নীলসমুদ্রের
নীলকান্তমণির লোভ দেখিয়ে হাঁটি।
আমি এখন আর কলমের সাথে কাগজের
ভালোবাসার মূল্যবোধ হিসেব কষতে জানিনা।
রঙিন চশমার ফাঁকে দিয়াশলাইয়ের অনিয়মিত
জ্বলজ্বলে আগুন দেখি দিন-রাত।
আটকে আছি বিক্ষুব্ধ অক্টোপাসের ভয়ংকর নেশায়।
আমি অন্যকে ভালোবাসার অর্থ বোঝাতে বেমালুম ভুলে গেছি।
ভালবাসা আজ ডুবে গেছে লোভনীয় চায়ের পেয়ালায়,
ভালবাসা ডুবে গেছে মুখোশের ভীতিগ্রস্ত আড়ালে,
ভালবাসা ডুবে যায় নীলযমুনার বিভৎস
বিলাসিতার রঙিন গ্লাসে।
তাই আমি এখন আর ভালোবাসা খুঁজিনা।
স্নিগ্ধ বিকেলে নীরবে চেয়ে দেখিনা মুক্ত পাখির ডানায়
কী ভালবাসা লুকিয়ে থাকে!
নিউইয়র্ক

 হঠাৎ তুমি
 প্রভাত বৈদ্য

 হঠাৎ চোখে চোখ পড়েছে
 উঠছে দুলে ঢেউ 
 সব পাখিরা ডাকলো ভীষণ 
ডাকলো হঠাৎ কেউ।
 এক পলকেই বৃষ্টি এলো
 এক পলকেই ঝড়
 এক নিমিষেই কাঁপলো ভূবন
 এক নিমিষেই পর ।
                                                    নিউইয়র্ক


 কলমের শেষ প্রাপ্তি

   প্রভাত বৈদ্য

পৃথিবীর আদি থেকে আজও টিকে আছো নির্বিকার!

চেহারায় বিবর্তন এলেও একটু পাল্টায়নি তোমার চরিত্র।

মানুষের হৃদয় খুঁড়ে খুঁড়ে অবলীলায় তুমি বলে যাও নিয়তির মর্মকথা।

তোমার সুক্ষ্ম, তীক্ষ্ণ মুখ দিয়ে চিনতে শিখিয়েছ অজানা পৃথিবীর অন্তিম রহস্য।

করেছ অমানুষ কে মানুষ ।

তোমার নীরব ঠোঁটে আকাশ -মাটি কল্পনার সমুদ্র বিলাপে এঁকে যায় জীবনের নির্মল ছবি।

ফুটে ওঠে পুস্পস্নাত ভোরের রঙিন সূর্যমুখী।

কী গভীর নীরব তোমার জীবন !

নিজেকে নিঃশব্দে নিঃশেষ করে মুহূর্তেই জ্বালিয়ে দিতে পারো অন্যকে।

জাগিয়ে দিতেও পারো হিমালয় বুক।

তোমার রাত্রি যাপনে কাগজের সাথে মস্তিষ্কের মঙ্গল যুদ্ধে কেড়েছে সীমানার পুরস্কার।

জিতিয়ে কিংবা ঠকিয়েছেও কূচক্রী দালাল।

তুমিই একান্ত সাক্ষী সংসার সমুদ্রের ধনী-গরীব, লাভ -ক্ষতির অনন্ত দরবারে।

সযত্নে ঠাঁয় দাঁড়িয়েছ পকেটে অথবা উচ্চমার্গীয় টেবিলের উপর।

তোমার বদৌলতের নোবেল প্রাইজ আজ অশ্রুসিক্ত ।

এখন তোমাদের অবসর দিনের অপেক্ষা।

ক্রমাগত মোবাইল ফোনে কিংবা উন্নতমানের সফটওয়্যার শরসয্যার আড়ালে,

নীরব শ্রোতা কেবলই শোনে আত্মবিলাপ-

“আজও আমার কোন প্রাপ্তি নেই।”

নিউইয়র্ক